শিমুল গাছের মূল এর উপকারিত
বোম্বাক্স বা শিমুল (ইংরেজি: Silk cotton) মালভেসি পরিবারের একটি গণের নাম। এরা পশ্চিম আফ্রিকা, ভারত, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, এবং পূর্ব এশিয়া ও উত্তর অস্ট্রেলিয়ার উপউষ্ণমণ্ডলীয় অঞ্চলের স্থানীয় প্রজাতি[৩]। Ceiba গণের থেকে এদের পার্থক্য হচ্ছে সিবা গণে সাদাটে ফুল ফোটে।মালয়, ইন্দোনেশিয়া, দক্ষিণ চীন, হংকং এবং তাইওয়ানে ব্যাপকভাবে এ গাছের চাষ হয়। চীনের ঐতিহাসিক দলিল-দস্তাবেজ থেকে জানা যায় যে, ন্যাম ইউয়েতের রাজা চিউ তো খ্রীষ্ট-পূর্ব ২য় শতকে হ্যান শাসনামলে সম্রাটকে প্রদান করেছিলেন। একে সংস্কৃত ভাষায় শাল্মলি-ও বলা হয়। এটি পাতাঝরা বৃক্ষ জাতীয় উদ্ভিদ। গাছের উচ্চতা ১৫ থেকে ২০ মিটার। কাণ্ডের চারপাশে সুবিন্যস্ত থাকে শাখা-প্রশাখা, তবে সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম। বৃহদাকার শিমুল গাছে অধিমূল জন্মে। গাছের গায়ে কাঁটা থাকে যার গোড়ার অংশ বেশ পুরু। তবে বয়স্ক গাছে তেমন কাঁটা থাকে না। শীতের শেষে পাতা ঝরে যায়, ফাল্গুনে ফুল ফোটে। ফল মোচাকৃতি। চৈত্র বা বৈশাখ মাসে ফল ফেটে শিমুল তুলা বেরিয়ে আসে।
উপকারিতা
শারীরিক দুর্বলতা ও যৌন দুর্বলতা উভয় দূর করতে নিয়ম করে শিমুল মূলের গুঁড়োর সাথে মধু মিশিয়ে খেলে ভালো উপকার পাওয়া যায়। এটি খেলে পুরুষের শুক্রানু অনেক গুণ বৃদ্ধি পায়। গর্ভবতী মায়ের বুকের দুধ বৃদ্ধিতে সাহায্য করে এটি। ত্বকের ব্রণ কমাতে এবং দাগছোপ দূর করতে সাহায্য করে। শিমুল গাছের ছাল ঘা সারাতে সহায়তা করে। রক্ত আমাশয়ে দুর করে। ছাল ফোড়ার উপর প্রলেপ দিলে উপকার হয়।
শিমুল মূলে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে পুষ্টি উপাদান, যেমন:
ভিটামিন এ: শিমুল মূলে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ, যা দৃষ্টিশক্তির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ভিটামিন সি: শিমুল মূলে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি, যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে সাহায্য করে।
খনিজ পদার্থ: শিমুল মূলে রয়েছে ক্যালসিয়াম, আয়রন, ফসফরাস, ম্যাগনেসিয়াম, এবং পটাসিয়াম সহ বিভিন্ন খনিজ পদার্থ, যা শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের স্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
শিমুল মূল কাঁচা অবস্থায় খেলে শরীরে নিম্নলিখিত উপকার পাওয়া যায়:
দৃষ্টিশক্তি বৃদ্ধি: শিমুল মূলে থাকা ভিটামিন এ দৃষ্টিশক্তি বৃদ্ধিতে সাহায্য করে।
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি: শিমুল মূলে থাকা ভিটামিন সি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে সাহায্য করে।
হজমশক্তি বৃদ্ধি: শিমুল মূলে থাকা ফাইবার হজমশক্তি বৃদ্ধিতে সাহায্য করে।
রক্তশূন্যতা দূরীকরণ: শিমুল মূলে থাকা আয়রন রক্তশূন্যতা দূরীকরণে সাহায্য করে।
শরীরের ব্যথা উপশম: শিমুল মূলে থাকা অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি উপাদান শরীরের ব্যথা উপশম করতে সাহায্য করে।
শিমুল মূল কাঁচা অবস্থায় খেতে হলে প্রথমে ভালোভাবে ধুয়ে নিতে হবে। তারপর ছোট ছোট করে কেটে নিতে হবে। এরপর কাঁচা অবস্থায়ই খেতে হবে।
শিমুল মূল কাঁচা অবস্থায় খেতে অসুবিধা হলে, তা সেদ্ধ করেও খাওয়া যায়। সেদ্ধ করার সময় পরিমাণমতো পানি দিয়ে সেদ্ধ করতে হবে। সেদ্ধ হয়ে গেলে পানি ফেলে দিয়ে শুধু মূল খেতে হবে।
শিমুল মূল কাঁচা অবস্থায় খেলে কোন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হয় না। তবে, অতিরিক্ত পরিমাণে খেলে পেট খারাপ হতে পারে।




0 Comments