পাথরকুচি পতার উপকারিতা
পাথরকুচি বীরুৎজাতীয় একটি ঔষধি উদ্ভিদ। পাথরকুচির বোটানিক্যাল নাম Kalanchoe pinnata (Lamk.) Pers. ফ্যামিলি Crassulaceae । অন্য একটি পাথরকুচির পাতা অনেকটা গোল, তার বোটানিক্যাল নাম Berginia ligulata Wall ফ্যামিলি Saxifragaceae । ইউনানি সম্প্রদায় এটিকে বলে আসল পাথরকুচি, আর কবিরাজরা পূর্বেরটিকে বলে আসল। যেসব ঔষধি গাছ প্রাচীন কাল থেকে চিকিৎসার ক্ষেত্রে ব্যবহার হয়ে আসছে তার মধ্য পাথরকুচি অন্যতম। চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের মতে, পাথরকুচি পাতা কিডনি, উচ্চ রক্তচাপসহ বিভিন্ন রোগের বিশেষ উপকারে আসে। রোগ প্রতিরোধে পাথরকুচি অতুলনীয়। পুরনো সর্দিতে পাতার রস গরম করে খেলে উপকার হয়। ছোট বড় সবার মূত্র রোধে পাতার রস খাওয়ানো হয়। খাওয়ার মাত্রা বড়দের বেশি। মূত্রনালির যে কোন সংক্রমণে, রক্তপিত্তে, পেট ফাঁপায়, শিশুদের পেট ব্যথায়, মৃগী রোগীদের পাথরকুচির রস খাওয়ানো হয়। মূত্র পাথর সারিয়ে দিতে সক্ষম পাথরকুচি। এ ছাড়া ব্রণ, ক্ষত ও মাংসপেশী থেঁতলে গেলে, বিষাক্ত পোকায় কামড়ালে এই পাতার রস আগুনে সেঁকে লাগালে উপকার পাওয়া যায়।
চিকিৎসা
কিডনির পাথর অপসারণ: পাথরকুচি পাতা কিডনি এবং গলগণ্ডের পাথর অপসারণ করতে সাহায্য করে।
পেট ফাঁপা: অনেক সময় দেখা যায় পেট ফুলে গেছে, প্রসাব আটকে আছে। সে ক্ষেত্রে একটু চিনির সঙ্গে এক বা দুই চা-চামচ পাথর কুচির পাতার রস গরম করে খেলে উপকার পাওয়া যাবে। পানির সঙ্গে মিশিয়েও খেতে পারেন।
মৃগী: মৃগী রোগাক্রান্ত সময়ে পাথর কুচির পাতার রস ২-১০ ফোঁটা করে মুখে দিতে হবে। একটু পেটে গেলেই রোগের উপশম হবে।
শিশুদের পেট ব্যথায়: শিশুর পেটব্যথা হলে, ৩০-৬০ ফোঁটা পাথর কুচির পাতার রস পেটে মালিশ করলে ব্যথার উপশম হয়।
ত্বকের যত্ন: পাথরকুচি পাতায় প্রচুর পরিমাণে পানি থাকে যা ত্বকের জন্য খুবই উপকারী।
পাইলস: পাথরকুচি পাতার রসের সঙ্গে গোল মরিচ মিশিয়ে পান করলে পাইলস ও অর্শ রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।
জন্ডিস নিরাময়ে: লিভারের যেকোনো সমস্যা থেকে রক্ষা করতে তাজা পাথরকুচি পাতা ও এর জুস অনেক উপকারী।
উচ্চ রক্তচাপ: উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে এবং মুত্রথলির সমস্যা থেকে পাথরকুচি পাতা মুক্তি দেয়।
শরীর জ্বালাপোড়া: দু-চামচ পাথর কুচি পাতার রস, আধা কাপ গরম পানিতে মিশিয়ে দুবেলা খেলে জ্বালাপোড়া উপশম হয়।
.jpg)
0 Comments