Header Ads Widget

গাছ-গাছড়া ও লতাপাতার হাজার গুন রোগ মুক্তি ও সুস্থ থাকতে ফলো করুন প্রতিদিন স্বাস্থ্যসেবা বিষয়ে জানুন

মানব দেহে বহেরা এর উপকারিতা ও চিকিৎসা সম্পর্কে জেনে নেই।

 বহেরা এর উপকারিতা

বহেড়া (বৈজ্ঞানিক নাম: Terminalia bellirica) (ইংরেজি: bahera or beleric or bastard myrobalan) বা বিভীতকী Combretaceae পরিবারের Terminalia গণের একটি বৃক্ষ।বহেড়া গাছ উচ্চতায় ৬০-১০০ ফুট পর্যন্ত লম্বা হয় অর্থাৎ খুবই বড় গাছ। গাছের গুড়িও অনেক লম্বা। শীত কালে এর ফল পুষ্ট হয়, তারপর নিজ থেকেই গাছ থেকে খসে পড়ে। এ গাছের ফল দু’রকমের হয়-এক প্রকার গোল, আরেকটি ডিম্বাকৃতির। এর ফল ও ফলের শাঁস ঔষধ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ভারতীয় উপমহাদেশের লোধা আদিবাসী সম্প্রদায়ের লোকেরা তাদের মনের প্রফুল্লতা আনার জন্য এই ফলের শাঁস খায়।বাংলাদেশের প্রায় সব অঞ্চলেই বহেড়া গাছ জন্মে। যেমন ভাওায়ালের অঞ্চল মধুপুর গড়, গাজীপুর, বগুড়া, দিনাজপুর, রামগড়, কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া এবং ভারতের ছোটনাগপুর, বিহার, হিমাচল প্রদেশ ও মধ্যপ্রদেশে প্রধানত এ গাছ বেশি দেখা যায়। পশ্চিমবঙ্গের বীরভুম, বাঁকুড়া ও বর্ধমানের শালবনেও এ গাছ প্রচুর জন্মে। উত্তোলণের সময় শীতের প্রাক্কালে ফল সংগ্রহ করা হয়।

আবাদী/অনাবাদী/বনজ এই গাছটি সাধারনত বনজ জাতীয় গাছ।গ্রীষ্মকালে এই গাছে ফুল আসে। তারপর হয় ফল। সেই ফল পুষ্ট হয় শীতের প্রাক্কালে। তারপর আপনা আপনি ঝরে পড়ে। এই গাছ রোপনের দরকার হয়না। পতিত জমির ধারে, জমির আইলে এটি আপনা আপনি জন্মে।



বহেরা এর চিকিৎসা




আমাশয়ঃ- সাদা বা রক্ত যে কোনও আমাশয়ে প্রতিদিন সকালে এক গ্লাস পানির সাথে এক চামচ বহেড়া

গুঁড়া খেলে উপকার পাওয়া যায়।


অকালে চুল পাকলেঃ- বহেড়ার বিচি বাদ দিয়ে ১০ গ্রাম ছাল নিয়ে পানি দিয়ে বাটুন। এক কাপ পানিতে

গুলে পানি ছেঁকে নিন, এবার সে পানি দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন। এর ফলে চুল ওঠা বন্ধ হয়।


শ্লেস্মায়ঃ- আধা চা-চামচ বহেড়া গুঁড়া, ঘি গরম করে তার সাথে মিশিয়ে আবার গরম করে মধু

মিশিয়ে চেটে খেলে উপকার পাওয়া যায়।


ইন্দ্রিয়-দৌর্বল্যেঃ- এ রোগ থেকে মুক্তি পেতে হলে রোজ দু’টি করে বহেড়া বিচির শাঁস খেতে হবে।

এর ফলে এই রোগ ভাল হয়।


শ্বেতী রোগেঃ- বহেড়া বিচির শাঁসের তেল বের করে শ্বেতীর ওপর লাগালে গায়ের রং অল্পদিনের

মধ্যেই স্বাভাবিক হবে।


অকালে টাক পড়লেঃ- বহেড়া বিচির শাঁস অল্প পানিতে মিহি করে বেটে চন্দনের মতো টাকে লাগালে,

টাক সেরে যায়।


ফুলা কমানোর জন্যঃ- বহেড়ার বিচি বাদ দিয়ে ছাল বেটে একটু গরম করে ফুলায় প্রলেপ দিলে

ফুলা কমে যায়। 


কৃমি রোগঃ- বহেড়ার বিচি বাদ দিয়ে ১০ গ্রাম শাঁসের গুঁড়া সাথে সামান্য ডালিম পাতার রসের

সাথে মিশিয়ে ৭ দিন খেলে কৃমি দূর হয়।


শ্বাস-কাশঃ- ১ চামচ বহেরার গুড়ো ১ চামচ মধু সহ খেলে শ্বাস-কাশ উপশম হয়।


আমলকী, হরিতকী ও বহেড়া এই তিন ফলের মিশ্রণকে ত্রিফলা বলে। আয়ুর্বেদিক ওষুধ হিসেবে ত্রিফলা স্বাস্থ্যের জন্য বহুমাত্রিক উপকারী।


Post a Comment

0 Comments